সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার এবং বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের জানাজা জাতীয় সংসদ ভবনের টানেলে সম্পন্ন হয়েছে।
রোববার (১২ জুলাই) বাদ আসর এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাঁকে জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে দাফন করার কথা রয়েছে।
জানাজা শেষে রাষ্ট্রপতির পক্ষে তাঁর কফিনে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মরহুমের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।
জানাজায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, জাতীয় সংসদের স্পিকার (অবসরপ্রাপ্ত) হাফিজ উদ্দিন, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, বিরোধীদলীয় নেতা, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহম্মদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা অংশ নেন। এ ছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ দলের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে রোববার বাদ জোহর ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে নির্ধারিত জানাজাটি অনুষ্ঠিত হয়নি বলে জানান তাঁর বড় ছেলে ও সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমির।
রোববার ভোর ৪টা ১৮ মিনিটে রাজধানীর শ্যামলীর একটি স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বর্ষীয়ান এই রাজনীতিক। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৯, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হন। পঞ্চগড়-১, ঢাকা-৯, বগুড়া-৬ এবং দিনাজপুর-১ আসন থেকে তিনি জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন।
ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও আবদুস সাত্তার এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। কর্মজীবনের বিভিন্ন সময়ে তিনি গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
